ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

চুল পড়া রোধে খেতে পারেন চেরি ফল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ৯ জুলাই ২০২৪  

চুল পড়া রোধে খেতে পারেন চেরি ফল

চুল পড়া রোধে খেতে পারেন চেরি ফল

চেরি হল ‘প্রুনাস’ গণের অন্তর্ভুক্ত এক প্রকার ফল। বাণিজ্যিকভাবে যে চেরির জাত চাষ করা হয় তা মূলত Prunus avium (প্রুনাস অভিয়াম) ৷বুনো চেরি ফসলি মাঠে চাষের অযোগ্য। যদিও ব্রিটিশ দীপপুঞ্জতে Prunus avium-কে বুনো চেরি বলা হয়।

চেরি হলো অসাধারণ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি বিদেশি ফল। আমাদের দেশে চেরি ফলের চাষ না হলেও (বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় না, তবে শখের বসে অনেকেই ছাদে বা বাগানে চেরি গাছ লাগান) বাজারে সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। চেরি ফল দেখতে খুব সুন্দর এবং খেতেও বেশ মজাদার। বিভিন্ন ডেজার্ট, কেক, পেস্ট্রি ইত্যাদিতে সৌন্দর্য ও স্বাদ বৃদ্ধির জন্য চেরি ফল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

চেরি ফলের পুষ্টিগুণ 

অসাধারণ পুষ্টিগুণে ভরা দর্শনধারী চেরিফল। প্রতি ১০০ গ্রাম চেরিতে রয়েছে ৬৩ গ্রাম ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ফোলেট ৪ গ্রাম, ভিটামিন সি ৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৬৪০ আইইউ, ভিটামিন কে ২ গ্রাম, পটাশিয়াম ২২২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১১ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম। চেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন ইনসুলিন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করে।

চেরি ফল খাওয়ার উপকারিতা 

১. হার্টের জন্য উপকারী: হার্টের রোগের প্রধান কারণ হলো কোলেস্টেরল।‌ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক যা অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ। চেরি ফলের এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।‌ অর্থাৎ চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও চেরি ফলে পটাশিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

২. ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে: চেরি ফলের এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি আর্থরাইটিস বা বাত জনিত ব্যথা ও প্রদাহ নিরাময়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রদাহ নিরাময়ে চেরি ফল অনেকটা ব্যথা নাশক ঔষধের (যেমন: আইবুপ্রোফেন) মতোই কাজ করে। এছাড়াও ব্যায়াম বা কঠোর পরিশ্রমের পর চেরি ফল বা চেরির জুস খাওয়ার ফলে সহজেই ক্লান্তি দূর হয়, পেশির ব্যথা দূর হয়ে যায় এবং পেশির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

৩. ভালো ঘুমের পক্ষে সহায়ক: সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভালো ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গবেষণায় দেখা গেছে যে, চেরি ফলে বিদ্যমান এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি ভালো ঘুমের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। রাতে ঘুমানোর আগে চেরি ফল বা চেরির জুস খাওয়া হলে ঘুমের সাথে সম্পর্কিত হরমোন (মেলাটোনিন) ও রাসায়নিক উপাদান (সেরোটনিন ও ট্রিপটোফ্যান) নিঃসরণ হয়। 

৪. ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকার: চেরি ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম। অর্থাৎ চেরি ফল খাওয়ার ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় না। উপরন্তু চেরি ফল রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চেরি ফল একটি দারুণ স্ন্যাকস হতে পারে।

৫. পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী: চেরি হলো ফাইবার সমৃদ্ধ একটি ফল যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে, হজম শক্তি ভালো রাখে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও নিয়মিত চেরি ফল খাওয়ার অভ্যাস (চেরি ফলে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলীর জন্য) লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৬. ত্বক ও চুল ভালো রাখে: ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্য নারী ও পুরুষ উভয়েরই চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। কারণ মানুষের সৌন্দর্যের বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে ত্বক ও চুলের অবদান। ত্বক ও চুল ভালো রাখতে চেরি ফল খাওয়া উপকারী হতে পারে। চেরি ফল খাওয়ার ফলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না (অর্থাৎ ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে যায়), ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য বেড়ে যায়, চুল পড়া রোধ হয় ইত্যাদি। 

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ইমিউন সিস্টেম বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্ব অপরিসীম। চেরি ফলে বিদ্যমান ভিটামিন ও এন্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে সহজেই ইনফেকশন ও রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।‌  

৮. চেরি ফল বনাম করমচা: করমচা (টক স্বাদযুক্ত ফল যার বৈজ্ঞানিক নাম Carissa carandas) ও চেরি সম্পূর্ণ ভিন্ন জাতের দুটি ফল। তবে করমচা ও চেরি ফলের পুষ্টিগুণ প্রায় একই রকম। চেরির মতো করমচা কম ক্যালরিযুক্ত ফল এবং এতে প্রচুর এন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করে।‌

সর্বশেষ
জনপ্রিয়